রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে হামলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পিআইওসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত প্রায় ৯টার দিকে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পিআইও নূরনবী সরকার বাদী হয়ে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন, উপজেলা শাখার সভাপতি সোহরাব আলী, সাধারণ সম্পাদক জাফর আলী, জিয়াউর রহমান, রাকিব ফেরদৌসসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে পৌর শহরের ভান্ডারা এলাকা থেকে জিয়াউর রহমান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় পিআইও নূরনবী সরকার তার কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় মামুনুর রশিদ মামুনের নেতৃত্বে কয়েকজন হঠাৎ অফিসে প্রবেশ করেন। রাতে অফিস খোলা রাখা নিয়ে শুরু হয় বাকবিতণ্ডা, যা দ্রুত উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে জাফর আলী ও সোহরাফ হোসেন পিআইওকে লক্ষ্য করে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। পরে অফিস সহায়ক আইয়ুব আলী বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
এদিকে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা বিষয়টি জানতে চাইলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা পলাশ চৌধুরীকে ধাক্কা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে পিআইও নূরনবী সরকার, অফিস সহায়ক আইয়ুব আলী, গণঅধিকার নেতা মামুনুর রশিদ মামুন এবং ছাত্রদল নেতা সাওয়াল, আতিক সহ মোট ৭ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই অভিযুক্তরা স্থান ত্যাগ করেন।পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তারুল ইসলাম বলেন, “লাইভ ভিডিও দেখে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে চাইলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং পরে মারামারি শুরু হয়।”পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী বলেন, “সরকারি অফিসে গিয়ে একজন কর্মকর্তাকে মারধর করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”
অফিস সহায়ক আইয়ুব আলী অভিযোগ করেন, “স্যারকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। আমি অসুস্থ মানুষ—এ ঘটনার বিচার চাই।”
পিআইও নূরনবী সরকার দাবি করেন, “এর আগেও আমার কাছে বিভিন্ন সময় অবৈধ দাবি করা হয়েছিল। রাজি না হওয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।”অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামুনুর রশিদ মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন,রাতে অফিস করায় পিআই অফিসে গিয়ে, তার সাথে আমি এবং আমার লোকজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। ফেরার পথে উপজেলা পরিষদের ভবনে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরাই তার ওপর হামলা চালায়। রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, “ঘটনার পরপরই মামলা নেওয়া হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply